কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামক হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুইজন ভারতীয় নাগরিক। নিহত ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে।
তারা হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান এবং শিলিগুড়ির যোগী নারায়ণ। অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি।
এছাড়া নিহত বাকি তিন বাংলাদেশি হলেন ঢাকার সাভারের বাবু আহমেদ এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান। তারা বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই হোটেলের তিনতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ হওয়ায় অনেক আবাসিক অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। ঘটনার সময় হোটেলের তিনতলার অনেক অতিথি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, যার ফলে তারা দ্রুত বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফায়ার সার্ভিস সদর কার্যালয় থেকে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের অন্যান্য তলায় থাকা পর্যটকরা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ছাদে আশ্রয় নেন, আবার অনেকে নিচে নেমে রাস্তায় চলে আসেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আহতদের স্থানীয় কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নীল রতন সরকার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নিউ মার্কেট, পার্ক স্ট্রিট ও তালতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। হোটেলের তিনতলার একটি বড় অংশ আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে হোটেলের নিরাপত্তা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বয়ান অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। হোটেলের সংকীর্ণ পথ এবং জরুরি বহির্গমন পথের সীমাবদ্ধতা উদ্ধার কাজকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছিল। বর্তমানে ঘটনাস্থলটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।
