ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সানান্দাজের একটি মহাসড়কে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। হামাদান-সানান্দাজ মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আরও ছয়জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সানান্দাজের গভর্নর জানিয়েছেন, ট্যাংকারটি মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এর ব্রেকিং সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
এই ত্রুটির কারণেই মূলত ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ব্রেকিং সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়ায় চালক গাড়িটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। এর পরপরই ট্যাংকারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে সেটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ট্যাংকারে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। গভর্নর নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। হামাদান-সানান্দাজ মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যেখানে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করে। ট্যাংকারটিতে কী পরিমাণ জ্বালানি ছিল এবং বিস্ফোরণের সময় আশেপাশে আর কোনো যানবাহন ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে কেন এই ত্রুটি দেখা দিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হওয়ার সময় আশেপাশে থাকা অন্যান্য যানবাহনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রাণহানির সংখ্যা বিবেচনায় এই ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হওয়ার পর আগুনের লেলিহান শিখা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সানান্দাজ শহরের এই মহাসড়কটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভারী যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
