ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়।
হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনারাক, বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইরানের সেনাবাহিনী এবং দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরান একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে কুহেস্তাক শহরের বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো মার্কিন হামলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। কুহেস্তাক শহরের বাসিন্দারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই হামলাকে নিষ্ঠুর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুহেস্তাক ছাড়াও কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ওই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ছিল বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার একটি সরাসরি প্রতিক্রিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কুহেস্তাক শহরের যে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, সেটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার সময় বাড়িতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের পরিচয় এবং আহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এই হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানাবেন।
কুহেস্তাক শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য এলাকাগুলোতেও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কোনারাক এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার ফলে ওই দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইরান সরকার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কুহেস্তাক শহরের এই হামলার ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে।
কুহেস্তাক শহরের বাসিন্দারা তাদের স্বজনদের হারিয়ে শোকাহত। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড কোর তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। কুহেস্তাক শহরের এই ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনার একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
