মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট এই হুমকি দেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন যে তারা ইরানের ওপর কঠোর আঘাত হানবেন এবং দেশটিকে এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে ইরান এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই দীর্ঘ সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের অচলাবস্থা কাটেনি। বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরান বন্ধ করে রেখেছে।
এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দর ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ রোববার ৩০ আগস্ট ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে আর মাইন পেতে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে যে এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এদিকে ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
তিনি জানান যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তবে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার দিনের শেষে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন যে তারা সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছেন।
তিনি আরও বলেন যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান কিংবা এই অঞ্চলের কারও স্বার্থের অনুকূলে নয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা। দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন হুমকির পর ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সংকট নিরসনের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে একে অপরকে চাপে রাখার কৌশল অব্যাহত রেখেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে।
