ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ব্যাটিং তারকা ব্রায়ান লারা পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের জন্য 'সঠিক এবং স্বাধীন চিকিৎসা সেবার' আহ্বান জানিয়েছেন। লারা তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি জানিয়েছেন।
লারা জানান যে, তিনি ইমরান খানের সাথে ক্রিকেট মাঠে খুব অল্পবার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তবে তার প্রতি তার সম্মান ছিল তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। তিনি বলেন যে, ইমরান খান একসময় তার দেশের জন্য আশা, গর্ব এবং অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। লারা তার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, একজন মানুষ যিনি তার ক্রীড়া জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তার দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছেন যেখানে তার প্রাপ্য সম্মান এবং করুণার সাথে চিকিৎসা করা হচ্ছে না।
লারা আরও বলেন যে, তিনি অন্যান্য প্রাক্তন অধিনায়কগণের সাথে একমত হয়ে ইমরান খানের জন্য সঠিক এবং স্বাধীন চিকিৎসা সেবার দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তার এই আহ্বান কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং এটি একজন মানুষের প্রতি মৌলিক মানবিকতা এবং ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তির প্রতি সম্মান।
এই আহ্বানটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন একুশ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য পুনরায় আবেদন জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, এই চিকিৎসা সেবা যেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদান করা হয়।
এর আগে ১৮ আগস্ট তারিখে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ আদিয়ালিয়া জেল কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা হাসপাতালে চিকিৎসা মূল্যায়নের জন্য স্থানান্তর করতে হবে। ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে বন্দী রয়েছেন এবং বেশ কিছু মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালের পরিবর্তে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ নেওয়া হয়েছিল। তারার জানান, সেখানে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান যে, ইমরান খানের বোন এবং তার নিজস্ব চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আরও জানান যে, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন চিকিৎসক দলের মাধ্যমে ইমরান খানের বিস্তারিত শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাকে 'শারীরিকভাবে সুস্থ' ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে একটি অবমাননা মামলা দায়ের করেছে। তারা দাবি করেছে যে, ইমরান খানকে নির্দিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
ইমরান খান একজন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০২২ সালে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
