ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের সেরিয়ান এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে যে, সেরিয়ান বিভাগজুড়ে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম সম্মতি দিয়েছেন। ধোঁয়াশার কারণে ওই এলাকার বায়ুর মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে সেরিয়ানের বায়ুদূষণ সূচক বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছালে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছিল। এই জরুরি অবস্থার প্রভাব হিসেবে সোমবার থেকে সেরিয়ানের ৬৪৭টি স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এই স্কুলগুলো বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয়, বাগান, নির্মাণকাজ এবং পাথর উত্তোলনের কাজও বন্ধ থাকবে।
তবে জরুরি সেবাগুলো এই সময়েও চালু থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধোঁয়াশার তীব্রতা কমাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কৃত্রিম বৃষ্টির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তিন দিনের এই কার্যক্রম অন্তত সোমবার পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ওই সময়ে বৃষ্টির উপযোগী মেঘ তৈরির সম্ভাবনা থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সারাওয়াকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ডগলাস উগাহ এমবাস জানিয়েছেন যে, জরুরি অবস্থা পুরো রাজ্যে নয়, বরং শুধুমাত্র সেরিয়ান এলাকায় কার্যকর হবে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ডগলাস উগাহ এমবাসের মতে, বাসিন্দাদের যতটা সম্ভব বাইরে যাওয়া কমাতে হবে এবং বাইরে থাকলে ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
বোর্নিও দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সারাওয়াক কয়েক সপ্তাহ ধরে ধোঁয়াশায় আক্রান্ত। এর পাশাপাশি পাশের সাবাহ রাজ্য এবং মালয়েশিয়ার উপদ্বীপীয় এলাকাতেও বায়ুদূষণের প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রুনাইয়েও ধোঁয়াশার খবর পাওয়া গেছে।
সিঙ্গাপুর জানিয়েছে যে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তারা প্রতিদিন ধোঁয়াশা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করবে। দেশটির বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সিঙ্গাপুরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো বলে জানানো হয়েছে।
ধোঁয়াশার প্রভাব ফিলিপাইনেও পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র শুক্রবার রাজধানী ম্যানিলাসহ এক ডজনের বেশি প্রদেশে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ভয়াবহ ধোঁয়াশার মূল কারণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জ্বলতে থাকা দাবানলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কালিমানতান ও সুমাত্রা অঞ্চলের আগুন থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিবছর মৌসুমি দাবানলের ঘটনা ঘটে এবং এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাতাসের সঙ্গে এসব আগুনের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও আশপাশের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, চলতি মাসে ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
