হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনডায়া দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। ১৯৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী এই তারকা বর্তমানে ৩০ বছর বয়সে পদার্পণ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজক, গায়িকা এবং ফ্যাশন আইকন হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে, তবে আজকের এই সাফল্য অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও সচেতনভাবে চরিত্র নির্বাচনের দীর্ঘ ইতিহাস।
জেনডায়ার বাবা-মা শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পারিবারিক পরিবেশের কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনয় ও মঞ্চের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তিনি শৈশবে নাচ শেখার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া শেক্সপিয়ার থিয়েটারের নেপথ্যে কাজ করেছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ২০১০ সালে ডিজনি চ্যানেলের ‘শেক ইট আপ’ সিরিজে রকি ব্লু চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি কিশোর দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।
এই সিরিজটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গানেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি নিজের নামে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যার ‘রিপ্লে’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ের দিকেই বেশি মনোযোগী হন। ২০১৭ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমায় জোন্স চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেন।
পরবর্তী সময়ে এই সিনেমার সিক্যুয়েলগুলোতেও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। জেনডায়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাঁক আসে এইচবিওর ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই সিরিজে তিনি রু বেনেট নামক এক জটিল চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে মাদকাসক্তি ও মানসিক সংকটের মতো বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২০২০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে এই চরিত্রের জন্য তিনি প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জয় করেন। তিনি ড্রামা সিরিজে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। ২০২২ সালেও তিনি একই পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি মাত্র কয়েক হাজার ডলার পারিশ্রমিক পেতেন। ‘ডুন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি তিন লাখ ডলার পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছিলেন। ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের প্রতিটি পর্বের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।
পরবর্তীতে ‘চ্যালেঞ্জার্স’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি এক কোটি ডলার পারিশ্রমিক নেন। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তাঁর পারিশ্রমিকের এই উল্লম্ফন হলিউডে তাঁর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রমাণ দেয়। জেনডায়ার পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ডিজনি তারকা হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর তাঁকে দীর্ঘদিন কিশোর অভিনেত্রী হিসেবেই দেখা হতো। সেখান থেকে সিরিয়াস অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁকে সচেতনভাবে চরিত্র বেছে নিতে হয়েছে। ‘ইউফোরিয়া’র মতো অন্ধকার ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন। ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার সহ-অভিনেতা টম হল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তদের আগ্রহের বিষয় ছিল এবং পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অল্প বয়সে খ্যাতি পাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তিনি সবসময় নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জেনডায়া মনে করেন, নিজেকে উপস্থাপন করা এবং ব্যর্থতাকে ভয় না পাওয়া তাঁর সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
