বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করার ঘোষণা দেয়। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
নতুন এই নির্ধারিত মূল্য বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে বলে বিইআরসি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যের উঠানামা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে বিইআরসি এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের পাশাপাশি অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২৭ টাকা। এছাড়া সাড়ে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৮২ টাকা এবং ১৬ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বড় আকারের সিলিন্ডারগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন দাম প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে ১৮ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ২৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৩০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও ৩০ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের নতুন দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এলপিজি মূলত রান্নার কাজে এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই জ্বালানির গুরুত্ব অপরিসীম। বিইআরসি নিয়মিত বিরতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই দাম নির্ধারণ করে, যাতে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বা গ্যাসের দামের প্রভাব স্বচ্ছ থাকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে এই সমন্বয় করা হয়।
নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিইআরসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত এই দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। খুচরা বিক্রেতা এবং পরিবেশকদের অবশ্যই এই নতুন মূল্য তালিকা অনুসরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই দাম কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে পণ্যটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের। বিইআরসির এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তী মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আবারও এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।
