বাংলাদেশ ব্যাংক হাই-টেক পার্কের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান বা টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নতুন সুবিধা প্রদান করেছে। এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি দেশীয় টাকার অ্যাকাউন্ট থেকেও নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব ফি বিদেশে পাঠাতে পারবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো বৈদেশিক দায় পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
২০১৯ সালের ১৬ মে জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলারের ১০ ধারা অনুযায়ী, হাই-টেক পার্কের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্ট থেকে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ ও কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেত। নতুন নির্দেশনায় এই সুযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
তবে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়কর বিবরণীতে ঘোষিত আগের বছরের বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বিদেশে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে অর্থ পাঠানোর আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় বা অর্থের উৎস নেই।
এছাড়া অর্থ পাঠানোর আগে প্রযোজ্য আয়কর ও ভ্যাট যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্বও ব্যাংকগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি অর্থ পাঠাতে চায় অথবা অন্য কোনো বৈধ খরচের অর্থ বিদেশে পাঠাতে ইচ্ছুক হয়, তবে তাদের অবশ্যই বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রক্রিয়া পরিচালনার সময় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ৩(৪) ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহক যাচাই বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানগুলো কঠোরভাবে পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে হাই-টেক পার্কের উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা মেটাতে আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত মজুদ নেই, তারা এখন দেশীয় মুদ্রার মাধ্যমেও তাদের কারিগরি ও রয়্যালটি সংক্রান্ত দায় পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। এটি হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত হাই-টেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ব্যত্যয় না ঘটে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে হাই-টেক পার্কের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও সহজতর আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
