সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের সামান্য উত্থান হয়েছে। এদিন লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষদিকে বাজারে ঢালাও দরপতন লক্ষ্য করা যায়। তবে আইটি এবং সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দিনশেষে সূচক ইতিবাচক অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ হয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে মোট ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে সমসংখ্যক অর্থাৎ ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সূচক বাড়লেও এদিন বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৭৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আইটি খাতের ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং মাত্র ২টির দাম কমেছে। সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত ৭টি কোম্পানির সবগুলোরই শেয়ারের দাম এদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দাম বেড়েছে, ১০টির কমেছে এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ প্রদানের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ১০১টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৪৫টির দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া বা জেড গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির দাম বাড়লেও ৮০টির দাম কমেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৭টির দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে। লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে, যার পরিমাণ ৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সায়হাম কটনের ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এছাড়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, টেকনো ড্রাগস এবং কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স রয়েছে। অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। সিএসইতে মোট ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫টির দাম বেড়েছে, ৮৬টির কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৪ পয়েন্ট কমেছে এবং মোট ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে ২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যায়, সিমেন্ট ও আইটি খাতের ইতিবাচক প্রভাব সূচককে ধরে রাখতে সহায়তা করলেও লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বাজারের তারল্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই লেনদেনের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব মিলিয়ে ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও সমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দরপতন বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। তবে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা সূচকের পতনে বাধা দিয়েছে।
