বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী এখন থেকে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এর আগে আগস্ট মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। বিইআরসি জানিয়েছে যে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের এই নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম সমন্বয় করে থাকে।
সৌদি আরামকো কর্তৃক নির্ধারিত এলপিজির নতুন দামের ভিত্তিতেই মূলত দেশের বাজারে এই জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে বিইআরসি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কিছুটা হ্রাস পাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোর পাশাপাশি বিইআরসি অটোগ্যাসের দামও সমন্বয় করেছে। অটোগ্যাসের নতুন দাম প্রতি লিটার ৭২ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ২২ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন দাম মেনে চলতে হবে। দেশের বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিইআরসি নিয়মিতভাবে গণশুনানি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা থাকলে কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সমন্বয় করার ক্ষমতা রাখে।
বিইআরসির এই নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সকল খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো বিক্রেতা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন সতর্ক করেছে।
এলপিজি সিলিন্ডারের দামের এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এই দাম কমানোর বিষয়টি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিইআরসি জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী মাসের জন্য দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এলপিজির দামের এই নতুন তালিকা আজ থেকেই দেশের সকল প্রান্তে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন আশা করছে যে, নতুন এই দামের ফলে বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে না। বিইআরসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গ্রাহকরা যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ প্রদান না করেন সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
কোনো বিক্রেতা যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন, তবে গ্রাহকদের নিকটস্থ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিইআরসি নিয়মিতভাবে এলপিজির দামের বিষয়টি তদারকি করবে যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
