যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে পোশাক আমদানির মোট পরিমাণ বা ভলিউম ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক৩৪ শতাংশ এবং পোশাকের গড় মূল্য ২ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।
একক মাস হিসেবে জুলাই মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার আরও বেশি ছিল। ওটেক্সার তথ্যমতে, জুলাই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওটেক্সার তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে চীন ও ভারতে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে এবং ভারতের রপ্তানি ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া পাকিস্তানের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া এই সময়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পোশাকের পিস বা সংখ্যার হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে। ওটেক্সার তথ্যমতে, এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পিস সংখ্যা ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে চীনের পিস সংখ্যা ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারত ২৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তবে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া পিসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
গড় ইউনিট মূল্যের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ দেশের পতন দেখা গেছে। চীনের ইউনিট মূল্য সবচেয়ে বেশি ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য ২ দশমিক ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজার সামগ্রিকভাবে সংকোচনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তবে মূল্যমানের হিসাবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ তুলূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও জুলাইয়ে রপ্তানি কমার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
