রাজধানীর মিরপুরে একটি সিড প্রসেসিং সেন্টারের আড়ালে নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১ এলাকার গোড়ান চটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত কৃষিবিদ সিড লিমিটেড নামক সিড প্রসেসিং সেন্টারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল এই অভিযান চালায়।
অভিযানে ওই সেন্টারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেটের মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী, উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তারা নকল মোড়ক উৎপাদনের বিষয়টি হাতেনাতে শনাক্ত করেন। অভিযানের সময় সেখানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বেনসন অ্যান্ড হেজেস, ডার্বি এবং স্টারের অসংখ্য নকল মোড়ক পাওয়া গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, এই কারখানায় কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরি করা হচ্ছিল। তারা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছিলেন যে, এই স্থানে শুধুমাত্র মোড়ক নয়, বরং নকল সিগারেটও তৈরি করা হতো। তবে অভিযানের সময় কারখানার ভেতরে থাকা সিগারেট তৈরির মূল যন্ত্রাংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
তারা ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন যা দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রমের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে জব্দকৃত মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং নথিপত্রের বিস্তারিত ইনভেন্টরি বা তালিকা তৈরির কাজ চলছে। উদ্ধারকৃত নথিপত্র এবং যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই অবৈধ কারখানার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ধরনের নকল মোড়ক ব্যবহার করে বাজারে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর সিগারেট সরবরাহ করা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই কারখানার আড়ালে আর কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
জব্দকৃত আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই অভিযানের ফলে নকল সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ চক্রের একটি বড় অংশের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। কৃষিবিদ সিড লিমিটেডের এই সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জব্দকৃত মালামাল এবং নথিপত্র এখন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে আপাতত ওই সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার জন্য কাজ করছে।
