বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ড এবং ইউরোর বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এনসিসি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই দিনটিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারের এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এনসিসি ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার প্রতি ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ছিল ১৬৩ দশমিক ৮৫২২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১৬৮ দশমিক ৪১৭২ টাকা।
একই দিনে ইউরোর ক্রয়মূল্য ছিল ১৪০ দশমিক ৫২১১ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১৪৪ দশমিক ৪১৮২ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে এই মুদ্রাগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। লেনদেনের সুবিধার্থে এবং প্রবাসীদের সচেতনতার জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়। বুধবারের বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ দশমিক ৫ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য মুদ্রার বিনিময় হারও এনসিসি ব্যাংকের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানি ইয়েনের ক্রয়মূল্য ছিল শূন্য দশমিক ৭৫৪০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল শূন্য দশমিক ৭৮২৮ টাকা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৭ দশমিক ০৩৪৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৮ দশমিক ১২৯৬ টাকা। হংকং ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১৫ দশমিক ৫৫৯২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১৫ দশমিক ৭৫০৭ টাকা।
সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ দশমিক ৮২০৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ৯৭ দশমিক ৪৪১২ টাকা। কানাডিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৭ দশমিক ৬২৪৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৮ দশমিক ৭২৭৬ টাকা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির ক্রয়মূল্য ছিল ১ দশমিক ২৮৪৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১ দশমিক ৩০০৬ টাকা।
এছাড়া সৌদি রিয়েলের ক্রয়মূল্য ছিল ৩২ দশমিক ৪৯৩৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ৩২ দশমিক ৮৯৪৭ টাকা। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের ক্রয়মূল্য ছিল ৩০ দশমিক ১৪৫৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ৩০ দশমিক ৫৬১৭ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো এই হার নির্ধারণ করে থাকে।
প্রবাসীরা যখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠান, তখন এই বিনিময় হার তাদের প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মুদ্রার মান ওঠানামা করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এনসিসি ব্যাংকের এই তালিকাটি মূলত লেনদেনের সুবিধার্থে এবং সাধারণ মানুষের তথ্যের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর ভিত্তি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুদ্রার বিনিময় হারের এই পরিবর্তনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ এটি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত এই হার গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
