কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কৃষকদের সারের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে মরক্কো থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আমদানির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আনা হবে। এই দুই ধরনের সার আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৬৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করা হয়। সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে মরক্কো থেকে এই সার আমদানি করা হবে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯৪ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা।
এই অর্থ কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে। মরক্কো থেকে সরকারি পর্যায়ে ডিএপি সার আমদানির জন্য এর আগে একটি চুক্তি ছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ২৫ জুন নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে এবারের সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মরক্কো থেকে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা সম্ভব হয়েছে। নতুন করে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আমদানির অনুমোদন পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সারের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
একই বৈঠকে মরক্কো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবটিও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এটি হবে মরক্কোর সাথে বিদ্যমান চুক্তির সপ্তম লটের সার আমদানি। ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা।
এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম পড়বে ৬৬৯ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। মরক্কোর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই সার সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কৃষি উৎপাদনের মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সার আমদানি করে থাকে।
মরক্কো থেকে এই সার আমদানি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। সার আমদানির এই সিদ্ধান্ত দেশের কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার কৃষকদের জন্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই আমদানির মাধ্যমে সারের ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের ওঠানামা সত্ত্বেও কৃষকদের সুবিধার্থে সরকার ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে সারের মজুদ পর্যাপ্ত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই সার আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য পাঠানো হবে।
