দেশের নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির লক্ষ্যে সরকার ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি এই সিদ্ধান্তের আওতায় দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হচ্ছে। প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এই তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকাভিত্তিক শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এই তেল সরবরাহ করবে। পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর। টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এই তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ক্রয়ের অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভোজ্যতেল সংগ্রহের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ কোটি লিটার। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৮৪ লাখ এক হাজার ৮০২ লিটার ভোজ্যতেল কেনা হয়েছে। একই বৈঠকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে এই ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মসুর ডাল কেনার জন্য চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সবগুলো প্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের কাছ থেকে এই ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত এই ডাল সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত আট হাজার ২৫০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে টিসিবির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল সরবরাহের কার্যক্রমে নতুন করে মজুত যুক্ত হবে।
এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটানো এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই অনুমোদনের ফলে পণ্যগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে টিসিবির গুদামে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিসিবির কার্ডধারী গ্রাহকরা নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে এই পণ্যগুলো ক্রয় করতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক রাখতে এবং নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত বিরতিতে টিসিবির মাধ্যমে এই পণ্যগুলো বিতরণ করা হবে।
