এনসিসি ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে পাউন্ড এবং ইউরোর বিপরীতে টাকার মান কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এনসিসি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা দরে ক্রয় করা হয়েছে এবং ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রয় করা হয়েছে।
ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ছিল ১৬৩ টাকা ৭৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৮ টাকা ৩৬ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুদ্রা ইউরোর ক্রয়মূল্য ছিল ১৪০ টাকা ৭৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৪ টাকা ৬৬ পয়সা। জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ছিল ক্রয়মূল্যে ০ টাকা ৭৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্যে ০ টাকা ৭৯ পয়সা।
অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা ৪৪ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ৫৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। হংকং ডলারের ক্রয়মূল্য ১৫ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৫ টাকা ৭৪ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ৯৫ টাকা ১২ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৭ টাকা ৭৬ পয়সা।
কানাডিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ২০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৯ টাকা ৩১ পয়সা। ভারতের রুপির ক্রয়মূল্য ১ টাকা ২৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১ টাকা ৩০ পয়সা। সৌদি আরবের রিয়েলের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের ক্রয়মূল্য ৩০ টাকা ১৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৩০ টাকা ৫৬ পয়সা।
এই বিনিময় হার ব্যাংকগুলোর নিজস্ব লেনদেনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তা পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণ গ্রাহক এবং প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে এই তথ্য প্রকাশ করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
যখন কোনো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান কমে যায়, তখন আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, টাকার মান বৃদ্ধি পেলে রপ্তানিকারকরা কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারেন। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে টাকার মান বৃদ্ধি পাওয়া তাদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এনসিসি ব্যাংকের এই তালিকাটি মূলত গ্রাহকদের সচেতনতা এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকরা তাদের নিকটস্থ শাখা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বশেষ বিনিময় হার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা বাঞ্ছনীয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে এই মুদ্রাবাজার পর্যবেক্ষণ করে থাকে যাতে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে।
