বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত পূর্ববর্তী নির্বাচনি তফসিল বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি স্মারক জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন এই স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসিসের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সদস্য তালিকা পুনর্মূল্যায়ন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আগের নির্বাচনি তফসিল বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এর আগে বেসিসের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সভাপতিসহ শীর্ষ কয়েকটি পদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া ভোটার তালিকার বস্তুনিষ্ঠতা এবং প্রকৃত তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল।
এই অসংগতিগুলো দূর করার লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় নতুন করে সদস্য তালিকা বাছাই ও হালনাগাদের কাজ হাতে নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই পুরো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বেসিসের সদস্যদের মধ্য থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ সহায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সদস্য ও ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করবে।
এর আগে বুধবার ২ সেপ্টেম্বর বেসিস নির্বাচন বোর্ড তৃতীয় দফায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশের পরদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তফসিল বাতিলের এই সিদ্ধান্ত এলো। বেসিসের নির্বাচন ঘিরে এই জটিলতা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার নির্বাচনি প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এবারের তফসিল বাতিলের ফলে নির্বাচনের সময়সীমা আবারও দীর্ঘায়িত হলো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ স্মারকে নতুন নির্বাচনের তারিখ বা নতুন তফসিল ঘোষণার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিশেষ সহায়ক কমিটি দ্রুত সদস্য ও ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করবে। প্রকৃত তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেসিসের নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সদস্য তালিকা ও ভোটারদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনে প্রকৃত আইসিটি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ কমিটির কার্যক্রমের ওপরই এখন পরবর্তী নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে।
