কালো তিল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব। আকারে ছোট এই দানায় প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। কালো তিলে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
প্রতি ১০০ গ্রাম কালো তিলে আনুমানিক ৫০৬ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৯. ২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৭. ২ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার পাওয়া যায়। এছাড়া এতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান বিদ্যমান। হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কালো তিল ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট এবং লিগনানজাতীয় উদ্ভিজ্জ যৌগ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কাজ করে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। হজম প্রক্রিয়ার উন্নতির ক্ষেত্রেও কালো তিলের ভূমিকা রয়েছে। এতে থাকা পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ বা ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য যারা ডায়েট করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কালো তিল যুক্ত করা যেতে পারে।
হাড় ও পেশির গঠন ও শক্তি অটুট রাখতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস অপরিহার্য। কালো তিলে এই খনিজগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ভালো উৎস হতে পারে। এছাড়া এসব খনিজ পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সহায়তা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কালো তিল সহায়ক হতে পারে।
ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে। তবে এটি কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ত্বক ও চুলের পুষ্টির ক্ষেত্রেও কালো তিল কার্যকর। এতে থাকা জিঙ্ক, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ বা প্রায় ১০ থেকে ২০ গ্রাম কালো তিল রাখা যেতে পারে। দই, সালাদ, স্মুদি, চাটনি কিংবা অন্যান্য সাধারণ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে এটি সহজেই খাওয়া সম্ভব। তবে কালো তিল ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের তিলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এটি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
এছাড়া কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় নতুন কোনো খাবার যুক্ত করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত কালো তিল যুক্ত করলে তা শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
