বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন বা বিজিবিএ নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু রোববার এক বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখা, সময়মতো পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য কাঁচামালের সহজলভ্যতা অপরিহার্য।
বর্তমান শিল্প পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সব ধরনের নিট ফেব্রিকের চাহিদা ও গুণগত মানের প্রয়োজনীয়তা সবসময় পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই শিল্পের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যথায় এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব উৎপাদন, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যেন দেশের রপ্তানি ও শিল্পখাতের বৃহত্তর স্বার্থে নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক আমদানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাতিল করা হয়। নতুন আমদানি নীতি আদেশের মাধ্যমে সরকার নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের ব্যবহৃত নিট ফেব্রিক আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে খাতটির রপ্তানিকারকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিট পোশাক রপ্তানি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিকারকদের দুটি প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে তারা আমদানি নীতি আদেশের এই বিধানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানির ওপর এমন বিধিনিষেধের ফলে পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সময়সীমা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বজায় রাখতে কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিকৃত ফেব্রিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তাদের পক্ষে সবসময় স্থানীয় উৎস থেকে উচ্চমানের ফেব্রিক সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান প্রয়োজন যাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং এই খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নমনীয়তা বজায় রাখা জরুরি। বিজিবিএ এবং অন্যান্য রপ্তানিকারক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়েছে যে, শিল্পের স্বার্থে এবং বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার জন্য আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে রপ্তানিকারকদের আলোচনার মাধ্যমে এই জটিলতার নিরসন হবে এবং পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
