দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এই পতনের ফলে সূচকের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তর ৬ হাজার পয়েন্টের সাপোর্ট ভেঙে পড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
বিপরীতে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে এবং ২১টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও প্রথম ঘণ্টার পর থেকেই বিক্রির চাপে সূচক দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
ভালো মানের বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ১৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও ১৬৮টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৪টির দাম কমেছে এবং কোনোটিরই দাম বাড়েনি। এছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত ১০৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ডিএসইর পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় পতন হয়েছে।
সেখানে সিএএসপিআই সূচক ১৭১ পয়েন্ট কমেছে এবং মোট ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার সংশোধন এই পতনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী জানান, গত আড়াই বছরে বাজারে নতুন কোনো আইপিও আসেনি এবং নতুন বিনিয়োগের হারও আশানুরূপ নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, যা মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, সূচকের এই বড় পতন অস্বাভাবিক এবং বাজারে নানারকম হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এই পতনের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে নেতিবাচক আলোচনার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাজারে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার অভাব রয়েছে, যা বাজারের একটি মৌলিক দুর্বলতা।
যখন বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়, তখন প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা না থাকায় পতন দ্রুত বড় আকার ধারণ করে। ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক স্তর ভেঙে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও এটি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল অন্যতম। এছাড়া সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনভয় টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে।
