বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস দেশের বাজারে সোনার গহনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এই নির্ধারিত মূল্যেই সোনা ও রুপা কেনাবেচা হবে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাজুস। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা ৫ হাজার ১৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে বাজুস নিয়মিত বিরতিতে এই মূল্যতালিকা প্রকাশ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম নির্ধারণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সোনার গহনার দাম বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময় সোনার গহনার চাহিদা বেড়ে যায়, যার ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন করে দাম পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্ধারিত মূল্যই বহাল থাকবে। ব্যবসায়ীদের এই নির্ধারিত দাম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোনার গহনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে বাজুস সূত্রে জানা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা থাকলে তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। বর্তমানে যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা ভ্যাটসহ চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ক্রেতারা যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গহনা কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়েও বাজুস নজরদারি বজায় রাখে।
দেশের জুয়েলারি শিল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় এই দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হয়। সোনার মানভেদে দামের এই পার্থক্য মূলত গহনা তৈরির সময় ব্যবহৃত সোনার বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে। ২২ ক্যারেট সোনা সবচেয়ে বিশুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার দাম বাজারে সবসময় বেশি থাকে।
অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনা বা কম ক্যারেটের সোনার গহনার ক্ষেত্রে দাম কিছুটা কম হয়। রুপার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। গহনা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সোনার দাম বাড়লে গহনা তৈরির মজুরি এবং আনুষঙ্গিক খরচও অনেক সময় ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে বাজুসের নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার এই নতুন দামের ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন থেকে এই নির্ধারিত দাম জেনেই গহনা কেনাকাটা করতে পারবেন। বাজুসের এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বর্ণ ব্যবসার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
