টানা তিন দফা কমানোর পর দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার গহনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বৃহস্পতিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়।
সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনার গহনার নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে দেশের বাজারে সোনার দাম টানা তিন দফা কমানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল।
তবে নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে গহনা ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোনার গহনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজুস মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা কাঁচা সোনার দামকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি বা তেজাবী সোনার দামের ওঠানামা সরাসরি গহনার দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দামের এই পরিবর্তন নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তারা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। সোনার গহনার দাম বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যারা বিয়ের মৌসুম বা বিশেষ উৎসবের জন্য সোনার গহনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তারা এখন নতুন এই দামের কারণে কিছুটা দ্বিধায় পড়েছেন।
তবে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প থাকে না। কারণ, ব্যবসায়ীদের তেজাবী সোনা কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে গহনা তৈরি করতে হয়। তেজাবী সোনার দাম বাড়লে গহনার উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। বাজুস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে, তারা দেশের জুয়েলারি শিল্পের মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
সোনার দামের এই পরিবর্তন শুধুমাত্র গহনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে সোনার বার বা অন্যান্য স্বর্ণজাত পণ্যের ক্ষেত্রে দামের ভিন্নতা থাকতে পারে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুস তাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে সোনার দামের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে থাকে। সাধারণ ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, গহনা কেনার আগে বাজুসের নির্ধারিত দাম যাচাই করে নেওয়ার জন্য।
দেশের বাজারে সোনার দামের এই নতুন চিত্র অর্থনীতিতে সোনার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতা উভয়ের জন্যই সোনার দামের এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের প্রবণতা কেমন থাকে এবং তার প্রভাব স্থানীয় বাজারে কীভাবে পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাজুস জানিয়েছে, তারা বাজারের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আবারও দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
