বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস দেশের বাজারে সোনার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। গত ৩১ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে সোনার গহনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকায়।
সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বর্তমানে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজুস নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে। যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তখনই দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে এবং বাজুস নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
সোনার দামের এই পরিবর্তন সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলে, কারণ বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময় সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সোনা কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে বাজুস নজরদারি বজায় রাখে।
সোনার গহনা কেনার সময় ক্রেতাদের ভ্যাটসহ চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা বাজুসের নতুন তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রুপার গহনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। বাজুসের এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই দামেই লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন হলে বাজুস পুনরায় বৈঠক করে নতুন দাম নির্ধারণ করবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ৩১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই মূল্যতালিকা অনুযায়ীই দেশের বাজারে সোনার গহনা ও রুপার গহনা কেনাবেচা চলবে। ক্রেতাদের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে বাজুসের নির্ধারিত এই মূল্যতালিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের অর্থনীতিতে সোনার বাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দামের ওঠানামা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। বাজুস নিয়মিতভাবে এই দাম সমন্বয় করে থাকে যাতে বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকে।
