জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৫৭ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার বিকেলে উপজেলার পাঠানপাড়া বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স নুর ইসলাম ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবু হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি এই জরিমানা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স নুর ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সার মজুত ও বিক্রি করে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন এই অভিযান চালায়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে মোট ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে ৪৯ বস্তা এমওপি, পাঁচ বস্তা টিএসপি এবং তিন বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম না মানায় এবং লাইসেন্স না থাকায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জব্দ করার পর সারগুলো নষ্ট না করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি জানান, কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই সার জব্দ করা হয় এবং পরবর্তীতে উপস্থিত কৃষকদের কাছে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। সার বিতরণের এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কৃষকরা সরকারি মূল্যে সার কেনার সুযোগ পান।
অবৈধভাবে সার মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করছে। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাজারে সারের সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ ছিল যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সার মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স প্রদর্শন এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত মনিটরিং করছে।
কোনো ব্যবসায়ী যদি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সার মজুত করেন বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন থেকে সতর্ক করা হয়েছে। জব্দ করা সারগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সারের মজুত ও বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
