জামালপুর জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ করতে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ একটি উপজেলার দৈনিক চাহিদার প্রায় সমান। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে অটোরিকশার এই বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় সাতটি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার কিছু এলাকা মিলিয়ে মোট সাত লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এই বিশাল এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে চাহিদার মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘাটতির কারণে প্রতিদিন ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ অটোরিকশা চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকার সমাধানের চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে জামালপুর শহরসহ চারটি উপজেলায় প্রায় ৭৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন, যাদের দৈনিক চাহিদা ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের এই বিপুল বিদ্যুৎ ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি অটোরিকশায় সাধারণত ১৫ অ্যাম্পিয়ারের চারটি থেকে পাঁচটি ব্যাটারি থাকে। এসব ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় এক থেকে দেড় ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। একটি অটোরিকশা পূর্ণ চার্জ করতে ছয় থেকে আট ইউনিট বা তার বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়।
সেই হিসেবে ১২ হাজার অটোরিকশা চার্জ করতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৯০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে, যা মেগাওয়াটের হিসাবে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যখন বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তখন অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে সারি সারি যান চার্জে বসানো হয়।
এই সময়ে বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা তীব্র লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন। অনেক অটোরিকশাচালক জানান, জীবিকার তাগিদেই তারা এসব যান চালাচ্ছেন এবং গ্যারেজভেদে প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা খরচ করতে হয়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই এভাবে চার্জ দিচ্ছেন।
তবে সরকার নির্ধারিত সময়ে বা আলাদা চার্জিং স্টেশনের ব্যবস্থা করলে তারা নিয়ম মেনে চলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে একই সময়ে গ্যারেজগুলোতে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব যানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন তৈরি এবং বিদ্যুতের পিক আওয়ারে চার্জিং সীমিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
