সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
Business মিনিট পড়া
|১০০%|

চট্টগ্রাম বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আটক

চট্টগ্রাম বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আটক
চট্টগ্রাম বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আটক — বাংলা ধ্বনি

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ আটক করেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপান থেকে পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে এই পণ্যগুলো আমদানি করেছিল। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িগুলোকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে আনা হয়। গত ১০ জুলাই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও আমদানিকারক কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননি।

নিলামের মাধ্যমে পণ্য খালাসের অপচেষ্টা করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চালানটি পরীক্ষা করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আনা হয়েছে। কনটেইনারের সামনের অংশে সাধারণ যন্ত্রাংশ সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, যার আড়ালে লেক্সাস ও বিএমডব্লিউ গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো লুকানো ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আটককৃত চালানটির শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে লেক্সাস এলএক্স ৬০০ মডেলের গাড়ির বাজারমূল্য ৬ থেকে ৯ কোটি টাকা, লেক্সাস এসসি ৪৩০ মডেলের মূল্য ৫০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের মূল্য ৩ থেকে ৮ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যন্ত্রাংশগুলোর প্রকৃত মূল্য ও শুল্কযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানান, চালানে পাওয়া অংশগুলো জোড়া দিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে। গাড়িভেদে বাংলাদেশে শুল্ক-কর ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

আমদানিকারক যদি এই চালান খালাস করতে চান, তবে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। একই আমদানিকারক এর আগেও মোংলা বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় বিলাসবহুল গাড়ি আনার চেষ্টা করেছিলেন, যা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জব্দ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে অনিয়মের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে সামনে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দর দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি সিকেডি বা খণ্ডিত অবস্থায় পুরোনো যন্ত্রাংশ হিসেবে আনার অভিযোগে জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। একই দিনে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের একটি গ্যারেজ থেকে ‘চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১’ নিবন্ধন নম্বরধারী একটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়।

এছাড়া কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং এলাকা থেকে আরও তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব গাড়ির ক্রয় ও আমদানি-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র আমদানিকারকরা দেখাতে পারেননি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংস্থাটি জানিয়েছে, গাড়িগুলো শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, চোরাচালান কিংবা দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বর্তমানে এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং আমদানির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আমদানিকৃত পণ্যের সঠিক ঘোষণা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে বন্দরের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি চালানের ওপর কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে।

জব্দকৃত গাড়ি ও যন্ত্রাংশগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
আনিসুর রহমান তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: আনিসুর রহমান© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫