গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর থেকে এক চীনা পোশাক ব্যবসায়ীর গাড়িতে থাকা এক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাড়িচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাড়িচালক জাহিদ হাসান, তাঁর স্ত্রী নাছিমা আক্তার এবং জাহিদের মামা মো. আক্তারুজ্জামান। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় চুরি হওয়া টাকার বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত টাকা ও জব্দ করা মালামালসহ গ্রেপ্তারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য ওই টাকা গাড়িতে রাখা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আকরামুল ইসলাম গত ২ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গাড়িচালক জাহিদ হাসান গত ৩ এপ্রিল থেকে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইউ শ্যালির গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে কারখানার কাজ শেষে চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহিদ।
পথে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাব হোটেলের সামনে গাড়ি থামিয়ে চেয়ারম্যান খাবার খেতে ভেতরে যান। এই সুযোগে চালক জাহিদ গাড়িটি নিয়ে সটকে পড়েন এবং গুলশানের একটি কফি শপের পার্কিংয়ে গাড়ি রেখে টাকার ব্যাগসহ পালিয়ে যান। খাবার শেষে ফিরে এসে চেয়ারম্যান গাড়ি ও চালককে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
চালকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়িচালক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মামা মো. আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আরও ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং স্ত্রী নাছিমা আক্তারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে পুলিশ মোট ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমাজদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, চুরি করা টাকা থেকে চালক জাহিদ হাসান নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া, নতুন আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মুঠোফোন কেনার পেছনে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন। পুলিশ নতুন কেনা আসবাবপত্র ও মুঠোফোনটি জব্দ করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাহিদ হাসান পেশাদারিত্বের আড়ালে এই চুরির পরিকল্পনা করেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, যেহেতু চুরির ঘটনার মামলাটি রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত মালামাল রূপগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশি তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
