খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মাছের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার নগরীর রূপসা মাছের আড়ৎ, নতুন বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে মাছের দাম কিছুটা কম থাকলেও খুচরা বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাইকারি পর্যায়ে মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই। বাজারে রুই মাছ আকারভেদে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, ভেটকি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, চন্দনা ইলিশ ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছোট মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পারশে মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং কই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের পাশাপাশি মাংসের দামও আগের মতোই চড়া রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বড় রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের আড়ৎদার সোনা মিয়া জানান, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রামপাল, পাইকগাছা ও তেরখাদাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আসে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, মাছের খাবারের উচ্চমূল্য এবং সামগ্রিক পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মাছের দাম বেশি। তিনি জানান, সমুদ্রের মাছের দামও অনেক বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নতুন বাজারের মাছ বিক্রেতা সামাদ গাজী বলেন, বাজারে মাছের আমদানি কম এবং দূর থেকে মাছ আনতে বরফ ও পানির পেছনে বাড়তি খরচ হয়। মাছ নষ্ট হলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তাই লাভের পরিমাণ খুব সামান্য। বাজারে আসা ক্রেতা ফরিদা পারভীন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকার নিচে নেই, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য।
আরেক ক্রেতা ওসমান গণি বলেন, গত দুই মাস ধরে মাছের দাম ক্রমাগত বাড়ছে কিন্তু কমছে না। তিনি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানান। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে মাছের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
