কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে এক প্রবাসীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে মাত্র তিন মাস আগে নতুন করে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরান মিয়া অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ নিয়েছিলেন। ধনকুড়ার ওই দোকানটি ছিল তার ব্যবসার মূল কেন্দ্র, যেখান থেকে তিনি হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন দোকানে পণ্য সরবরাহ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতোই কাজ শেষে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান।
গভীর রাতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক রিকশাচালক দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে ইমরান মিয়াকে খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসে জানানো হয়। হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া জানান, তার দোকানে দুটি কোম্পানির প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল মজুদ ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের সময় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ পণ্যই পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, কিন্তু এই অগ্নিকাণ্ড তার ব্যবসায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল হক জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইমরান মিয়া তার এই নতুন ব্যবসা নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন এবং প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন মাসের মাথায় এই দুর্ঘটনা তার সমস্ত পরিকল্পনা ও বিনিয়োগকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধনকুড়া হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকাটি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েনি, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া তার এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করছে।
বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ইমরান মিয়ার এই ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তাকে সাহস জোগাচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে যাতে পরবর্তী কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের বৈদ্যুতিক লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
