ওষুধ খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগ এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করেছে। গত বছর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অংশীদারত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সহায়তা করা এবং তাদের বাস্তব শিল্পপরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এনএসইউর এমফার্ম পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও থিসিস সম্পন্ন করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে বেক্সিমকো ফার্মা। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের বেক্সিমকো ফার্মার আধুনিক গবেষণাগার ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শিল্প খাতের বর্তমান চাহিদা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর টঙ্গীতে অবস্থিত বেক্সিমকো ফার্মার কারখানায় দুই শিক্ষার্থীর এমফার্ম থিসিস প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং বেক্সিমকো ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) রাব্বুর রেজা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তারা জানান, শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি বাস্তব শিল্পপরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা প্রদান করা হলে তা ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়ক হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বেক্সিমকো ফার্মার টঙ্গী কারখানা পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলটি কারখানার আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন উৎপাদনসুবিধা ঘুরে দেখেন।
বেক্সিমকো ফার্মার গবেষণাসুবিধা ব্যবহারের সুযোগ এনএসইউর শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্পপরিবেশ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের গবেষণার ফলাফল দেশের ওষুধশিল্পের বিভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশের ওষুধশিল্পের জন্য ভবিষ্যৎ দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উভয় প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ গবেষকদের সুযোগ তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্প খাতের সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের সামগ্রিক অগ্রগতিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
এই অংশীদারত্ব কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ওষুধ শিল্পের মানোন্নয়ন ও নতুন উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
