রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধনের ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৪.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা হবে। এই আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা আইডিবির মাধ্যমে এই প্রকল্পের জন্য ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার সমান।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার এবং আইডিবির মধ্যে 'বাংলাদেশে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ' শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় শনিবার এই চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ঋণদাতার পক্ষে আইডিবির কান্ট্রি প্রোগ্রামস ডিরেক্টর জেনারেল আনাস আইসামি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান এবং আইডিবির গ্রুপ চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসার উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্যমতে, এটি আইডিবির মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিচালিত একক কোনো প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি হিসেবে বছরে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টন পরিশোধনের ক্ষমতা রাখে। সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এই ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই বর্ধিত উৎপাদন ক্ষমতা দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদাপূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, আধুনিকায়িত রিফাইনারিটি ইউরো-৫ মানদণ্ডের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
এই সম্প্রসারণের ফলে আমদানিকৃত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ পরিশোধনের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিপুল পরিমাণ আমদানি করে থাকে, কারণ ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান ক্ষমতা জাতীয় চাহিদাপূরণের জন্য অপর্যাপ্ত। তাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন থেকে বাঁচতে রিফাইনারির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি রিফাইনারির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চমানের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম করবে।
আইডিবির মাধ্যমে এই অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যাংকটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকটি প্রকল্প অর্থায়ন, বাণিজ্য অর্থায়ন, এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়নের পাশাপাশি রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবির গ্রুপ চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশের সাথে আইডিবির সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান এই সাক্ষাতে সহজ শর্তে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সরকার আশা করছে যে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
