আগামী ৩ অক্টোবর থেকে অষ্টম ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (আইবিবি) এই পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে। ব্যাংকারদের পেশাগত দক্ষতা, উৎকর্ষতা এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান মূল্যায়নের লক্ষ্যে বছরে দুইবার এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বে এটি ব্যাংকিং ডিপ্লোমা নামে পরিচিত ছিল। পরীক্ষাটি দুটি পর্বে বিভক্ত—প্রথম পর্ব জেএআইবিবি এবং দ্বিতীয় পর্ব এআইবিবি।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রথমত, পরীক্ষার খাতায় সুন্দর উপস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিচ্ছন্ন হাতের লেখা, ছোট বাক্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাত্ত প্রদান এবং খাতার মার্জিন যথাযথ রাখা ভালো নম্বর পেতে সহায়তা করে। ঢালাওভাবে উত্তর না লিখে পয়েন্ট আকারে উত্তর লেখা এবং প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়।
দ্বিতীয়ত, গতানুগতিক উত্তরের পরিবর্তে প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চার্ট, টেবিল ও গ্রাফ ব্যবহার করা উচিত। আইবিবি প্রদত্ত স্টাডি ম্যাটেরিয়াল এবং বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উত্তর লিখলে তা পরীক্ষকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তৃতীয়ত, ইংরেজি মাধ্যমে উত্তর প্রদান করা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক। যদিও বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই উত্তর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে বিজনেস, ইকোনমিকস এবং ফিন্যান্সিয়াল টার্মগুলো ইংরেজিতে লেখা সহজ।
বিশেষ করে বিজনেস কমিউনিকেশন ইন ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন বিষয়ের উত্তর অবশ্যই ইংরেজিতে লিখতে হয়। চতুর্থত, ইন্টারনেট-ভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আইবিবির ওয়েবসাইটে প্রদত্ত স্টাডি ম্যাটেরিয়ালের পাশাপাশি গুগল, উইকিপিডিয়া, ইনভেস্টোপিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট টপিক অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। পঞ্চমত, বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করা প্রস্তুতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০২৩ সাল থেকে নতুন সিলেবাস এবং ষষ্ঠ পরীক্ষা থেকে নতুন প্রশ্নপদ্ধতি চালু হয়েছে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায় এবং অনেক সময় প্রশ্ন কমনও পাওয়া যায়। ষষ্ঠত, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা জরুরি। আবেদন করার সময় ছয়টি বিষয়ের জন্য আবেদন করা ভালো।
কোনো বিষয়ে পাস মার্ক না পেলে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। সপ্তমত, চাকরির শুরুর দিকেই এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম। কর্মজীবনের শুরুতে পেশাগত ও পারিবারিক দায়িত্ব কম থাকায় পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় পড়াশোনার সুযোগ কমে আসে, তাই দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। অষ্টম ও সর্বশেষ পরামর্শ হলো বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়া। দীর্ঘ সময় একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে থাকার ফলে টাইম ম্যানেজমেন্ট, গাণিতিক ফর্মুলা ভুল করা বা দীর্ঘ সময় পরীক্ষা দিতে গিয়ে ক্লান্ত হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
অফিস ছুটির দিনে বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাসায় মডেল টেস্ট দিলে পরীক্ষার হলে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা সহজ হয়। উল্লেখ্য, প্রথম পর্ব উত্তীর্ণ ব্যাংকাররা নিজ নিজ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পর্ব উত্তীর্ণরা ৫০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার পেয়ে থাকেন।
যথাযথ প্রস্তুতি এবং এই আটটি পরামর্শ অনুসরণ করলে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
