সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের তিনটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যে তিনটি ব্যাংকের এমডিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) এবং বেসিক ব্যাংক পিএলসি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসীমউদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করার বিষয়ে সরকার সম্মতি প্রদান করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই তিনটি ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমডিদের মেয়াদ বাতিলের পাশাপাশি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদেও বড় ধরনের রদবদল করেছে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ১০ জন পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। এছাড়া কয়েকজন পরিচালক ছিলেন সরকারপক্ষের, যাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই শূন্য পদগুলোতে নতুন করে ১৫ জনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংক থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব বদরে মুনির ফেরদৌস ও কাওছার আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সেখানে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম, হিসাববিদ খন্দকার মামুন এবং গ্রেড-১ পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুন নাহার। অগ্রণী ব্যাংক থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক, ফয়েজ আহমেদ ও মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ। তাদের স্থলে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা বেগম, সাবেক সচিব ফজলুল বারী, সাবেক ব্যাংকার মো. আসাদুজ্জামান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সাবেক এমডি আবুল এহতেশাম আবদুল মোহায়মেন।
রূপালী ব্যাংক থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবু ইউসুফ মিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাকসুদা বেগম, শফিকুল আলম ও হিসাববিদ মীর সাজেদ উল বাসার। বেসিক ব্যাংক থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুন্সী আবদুল আহাদকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ, মো. লুৎফুর রহমান ও খাইরুল কবিরকে।
এছাড়া বিডিবিএল থেকে মাহবুবুন নাহার, আবদুল মজিদ ও শাহ আলম মিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নূরুন্নাহার ওসমানী ও আবিদ হোসেন খান। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে সরকার এই ধারাবাহিক পরিবর্তন আনছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী, পর্ষদ পুনর্গঠন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি এখন ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
