ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এই বৃত্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় এবারও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃত্তির আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও জেলা শহর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে গ্রামীণ ও অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির নীতিমালা অনুযায়ী, যারা ইতিমধ্যে সরকারি কোনো উৎস থেকে বৃত্তি পাচ্ছেন, তারা এই বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। বৃত্তির মোট সংখ্যার ৯০ শতাংশ গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে দুই বছর এই আর্থিক সহায়তা পাবেন।
প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এছাড়া পাঠ্য উপকরণের জন্য বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ কেনার জন্য বছরে ১ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট app.
dutchbanglabank. com/DBBLScholarship-এ প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, পিতা ও মাতার পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্র এবং প্রশংসাপত্রের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে। সরাসরি, ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ‘প্রাইমারি সিলেকশন লেটার’ এবং নির্দেশিকার প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে ব্যাংকের যেকোনো শাখা বা মোবাইল ব্যাংকিং অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই বৃত্তির উদ্দেশ্য হলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে কারো পড়াশোনা ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথিপত্র সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোনো ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবেদনের শেষ সময়সীমা ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
