২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ একক দেশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এই তথ্য জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, আলোচ্য অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে মোট ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এর মাধ্যমে দেশটি পুনরায় প্রবাসী আয়ের উৎস হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এই পরিমাণ আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বেশি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক সংসদে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সৌদি আরবের পর তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এই সময়ে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।
তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এর আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্সের এই পরিবর্তনশীল ধারা প্রবাসীদের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারের গুরুত্ব পুনরায় স্পষ্ট হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখছে। রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সংসদীয় অধিবেশনে উপস্থাপিত এই তথ্যের মাধ্যমে গত অর্থবছরের প্রবাসী আয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠেছে। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আসা এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টিও সরকারি নথিতে উঠে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত এই প্রতিবেদনটি দেশের প্রবাসী আয়ের বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
