বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা রিহ্যাবের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা একটি চিঠির মাধ্যমে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সংগঠনটির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
গত ৩০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫৪ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এই স্থগিতাদেশের পর সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল গত ১৬ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন।
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই মন্ত্রণালয় এই ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র বার্ষিক সাধারণ সভা স্থগিত করা হয়েছিল, কিন্তু সংগঠনটির নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ফলে রিহ্যাব এখন থেকে তাদের অন্যান্য সাংগঠনিক ও নিয়মিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
এই স্পষ্টীকরণের ফলে রিহ্যাবের কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে মনে করছেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে রিহ্যাব কোনো বাধা ছাড়াই তাদের দাপ্তরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আবাসন খাতের উন্নয়ন এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় রিহ্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আবাসন খাতের উন্নয়নে রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং এই খাতের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ের এই চিঠির মাধ্যমে রিহ্যাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এবং সদস্যদের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা দূর হয়েছে। এখন থেকে রিহ্যাব তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা স্থগিত থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য নিয়মিত কাজগুলো আগের মতোই চালিয়ে যেতে পারবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখন থেকে তাদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা রিহ্যাবের সকল সদস্যের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সরকারি নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় আবাসন খাতের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কোনো স্থবিরতা আসবে না বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে রিহ্যাবের প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটল এবং সংগঠনটি এখন থেকে তাদের স্বাভাবিক গতিতে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
