পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
প্রদর্শনীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার প্রতিষ্ঠান রিমার্ক-হারল্যানের প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখার সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের উৎপাদন সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্যের বৈচিত্র্য, আধুনিক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিল্পের এই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। রিমার্কের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে পণ্য উৎপাদন করছে, তা দেশের শিল্পায়নের জন্য ইতিবাচক।
এই প্রদর্শনীর আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, এবারের আয়োজনে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫৮টি কোম্পানি এবং ১৩২টি ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করছে। রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপ এই প্রদর্শনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
রিমার্ক-হারল্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ বা জিএমপি সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। বর্তমানে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সিজিএমপি, আইএসও এবং হালাল মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য বর্তমানে দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও লিলি, নিওর ও সিওডিলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এই বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস জানান, বাংলাদেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্প বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
প্রদর্শনীতে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সৌন্দর্যপ্রেমী, মেকআপ শিল্পী, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল পণ্য প্রদর্শনের জায়গা নয়, বরং জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তি পরিচিতির একটি কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক সুকান্ত দাস, হারল্যান স্টোরের হেড অব মার্কেটিং মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব এবং রিমার্ক-হারল্যানের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
