রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ এর দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর আয়োজনের দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার এবং পার্সোনাল কেয়ার পণ্যের বিশাল সমাহার নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টলগুলোতে দিনভর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, ত্বকের যত্ন, চুলের যত্ন, সুগন্ধি এবং গ্রুমিং পণ্য সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সেবা নিয়েও প্রদর্শনীতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো প্রসাধনী শিল্পের সাথে জড়িত উদ্যোক্তা, আমদানিকারক, পরিবেশক এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি কার্যকর ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি করা।
দ্বিতীয় দিনেও ব্যবসায়ীদের জন্য বিটুবি বা বিজনেস-টু-বিজনেস নেটওয়ার্কিংয়ের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা দেশি ও বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করেছে। প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ইন্ডাস্ট্রি টক: দ্য ফিউচার অব বিউটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা। স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও এস এম ফয়সাল মুনিমের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দেশি ও বিদেশি প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বাংলাদেশের এই খাতের অপার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পকে কেবল আমদানিনির্ভর বাজার হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদনমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আহ্বান জানান।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানসহ মোট ১৬টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। শতাধিক স্টলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও এস এম ফয়সাল মুনিম জানান, দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে সাড়া পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। তাদের প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনী কেবল পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং উদ্যোক্তা ও ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রসাধনী শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও শবনম ফারিয়ার মতো জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। এর আগে প্রথম দিনে মডেল ও অভিনেত্রী অথৈইয়ের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। আগামী শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর এই প্রদর্শনীর শেষ দিন। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের বিশ্বাস, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের প্রসাধনী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
