মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন পতিত জমিতে সবজি চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয় করছেন। তিনি তার বাড়ির পাশে থাকা ২০ শতক এবং অন্য এক মালিকের কাছ থেকে বছরে ২৫ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া ৬০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন।
প্রথমবার চাষ শুরু করার সময় তিনি স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামের সাথে সাথে পুঁজি ও শ্রমের সমন্বয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথমবার পুরো জমিতে টমেটো, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও বেগুন চাষ করেন তারা। জমি প্রস্তুত, বীজ, চারা, সার, সেচ এবং বেড়া তৈরিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়।
প্রথমবার সবজি বিক্রি করে তারা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন এবং লাভের টাকা দুজনের মধ্যে ভাগ করে নেন।
২০২৩ সাল থেকে আবদুল মতিন একা এই চাষাবাদ শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর জমিতে কাজ করেন এবং সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে প্রস্তুতি নিয়ে তার দোকানের জন্য চলে যান। বর্তমানে তিনি জমি পরিচর্যার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন শ্রমিক নিয়োগ করেছেন, যা স্থানীয়ভাবে একজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
চাষপদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে তিনি তার বাগানে মালচিং পেপার এবং পলিশেড ব্যবহার করেন। মালচিং পেপার হলো পলিথিনের ঢাকনা যা গাছের গোড়ার মাটির পুষ্টি উপাদান ধরে রাখতে সাহায্য করে। পলিশেড পেপার দিয়ে তিনি আবহাওয়া ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন। এই আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের ফলে প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়।
বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৩০ শতক জমিতে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, এবং ১৫ শতক জমিতে শসা ও ১৫ শতক জমিতে শসা ও ১৫ শতক জমিতে হলুদ তরমুজের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতক জমিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ গ্রাফটিং টমেটোর প্রদর্শনী দিয়েছে। গ্রাফটিং বা কলম পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ করেন তিনি।
আবদুল মতিন জানান, তিনি জমিতে মূলত জৈব সার ব্যবহার করেন এবং কীটনাশক খুব কম ব্যবহার করেন। গ্রীষ্মকালে বাজারে টমেটো, লাউ ও শসার মতো শীতকালীন সবজির চাহিদা ও দাম বেশি থাকে বলে তিনি এই সময়ে এই সবজিগুলো চাষ করেন।
তার হিসাব অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। শীত আসার আগপর্যন্ত আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করেন। বর্তমানে তার বাগানে টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা ও লাউ আকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি তিনি তার বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা গাছ লাগিয়েছেন।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, শ্রম, সময় এবং সঠিক পরিচর্যা থাকলে জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব এবং আবদুল মতিনের এই উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করছে।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন এবং জুড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত ২৪ আগস্ট মতিনের বাগানে স্থানীয় কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করে realizaron। এই প্রশিক্ষণের ফলে স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক সবজি চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে।
