ভোমরা স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানামার ম্যানুয়াল কাজের দায়িত্ব পেয়েছে এম এ হাসেম অ্যান্ড সন্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়।
অনুমোদিত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৬০৯ টাকা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য দ্রুত, নিরাপদ এবং যথাযথভাবে লোড ও আনলোড করার জন্য শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।
স্থলবন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় মোট চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। দরপত্র জমা দেওয়ার পর মূল্যায়ন কমিটি প্রতিটি প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করে। এই যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে দরপত্রের সকল আনুষ্ঠানিকতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বাগেরহাটের এম এ হাসেম অ্যান্ড সন্সকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচন করে এবং তাদের নাম সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ কোটি ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৬০৯ টাকায় ভোমরা স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কাজের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশটি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয় যে, সুপারিশকৃত দরটি দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ৮৫ শতাংশ বেশি। নির্ধারিত সকল প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন অনুসরণ করার পর ঠিকাদার নিয়োগের এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ভোমরা স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ভর করে। ঠিকাদার নিয়োগের এই নতুন চুক্তির ফলে বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের তদারকি করবে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব পালন করবে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এম এ হাসেম অ্যান্ড সন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ভোমরা স্থলবন্দরে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। বন্দরের দৈনন্দিন পণ্য ওঠানামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর আর্থিক দিকগুলো বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই অনুমোদনের মাধ্যমে ভোমরা স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
