ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেট বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তার দেশের ওষুধের চাহিদা পূরণে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। বুধবার ঢাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেট জানান, বর্তমানে ফিলিপাইন তাদের মোট ওষুধের চাহিদার ৬৭ শতাংশ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। এই বিশাল চাহিদার একটি বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে মেটানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং এই খাত থেকে ওষুধ আমদানির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজতর করার লক্ষ্যে ঢাকা ও ম্যানিলার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা অত্যন্ত জরুরি। সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে চিকিৎসা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সব স্তরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং সেবার মান যাচাই করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, দেশের হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়ে উন্নীত করা। এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেন আরও উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বৈঠকে নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় চলমান কার্যক্রমগুলো আরও গতিশীল করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। নার্সিং পেশায় ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে, যা বাংলাদেশের নার্সিং খাতের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত উভয়েই আশা প্রকাশ করেন যে, ওষুধ শিল্প ও নার্সিং শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও আরও গভীর হবে। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফিলিপাইনের এই প্রস্তাব বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বমানের মানদণ্ড অনুসরণ করে ওষুধ উৎপাদন করছে এবং বিশ্বের অনেক দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।
ফিলিপাইনের মতো দেশে ওষুধের বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান আরও সহজ হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ প্রশস্ত করেছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
