জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সবিহীন শতভাগ প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী মেলাঞ্জ ইয়ার্ন বা বিশেষ ধরনের সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্ত সাপেক্ষে পণ্য সরবরাহের নীতিগত অনুমতি প্রদান করেছে। রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পোশাক শিল্পের লিড টাইম কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের রপ্তানি ও বন্ড শাখা থেকে জারি করা এক সাধারণ আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী শতভাগ প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী ডাইং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ইউটিলাইজেশন পারমিশন বা ইউপি গ্রহণপূর্বক ওয়্যারহাউস লাইসেন্সবিহীন মেলাঞ্জ ইয়ার্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে।
তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত বেশ কিছু কঠোর শর্ত পরিপালন করতে হবে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়্যারহাউস লাইসেন্সবিহীন মেলাঞ্জ ইয়ার্ন প্রস্তুতকারক কর্তৃক লাইসেন্সধারী ডাইং কারখানার অনুকূলে ইস্যুকৃত ব্যাক-টু-ব্যাক লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি অবশ্যই সরাসরি রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের মাস্টার এলসি অথবা সেলস কনট্রাক্টের বিপরীতে ইস্যু হতে হবে।
এলসিতে মেলাঞ্জ ইয়ার্ন উৎপাদনের জন্য ফাইবার ডাইং বিষয়টি পণ্যের পরিমাণসহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ডাইং প্রতিষ্ঠানের ইউপি আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট সব ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং প্রো-ফরমা ইনভয়েসের অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সধারী ডাইং প্রতিষ্ঠান থেকে ডাইংকৃত ফাইবার দিয়ে প্রস্তুত করা মেলাঞ্জ ইয়ার্ন অবশ্যই সরাসরি রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের কাছে সরবরাহ করতে হবে।
ওয়্যারহাউস লাইসেন্সবিহীন মেলাঞ্জ ইয়ার্ন কারখানাগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও বিআইএনসহ কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিবিএমএস-এ তালিকাভুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি এই কারখানাগুলোকে অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আইআরসি হোল্ডার এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট হতে হবে। প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে ডাইংকৃত ফাইবার সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেটে দাখিল করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেলাঞ্জ সুতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল, তা দূর করার লক্ষ্যেই এনবিআর এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনবিআরের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই শর্তাবলী মেনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী হবে এবং লিড টাইম বা পণ্য উৎপাদনের সময়সীমা কমে আসবে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
