মিউজিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান পি টিউনের স্বত্বাধিকারী পরাগ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ এবং কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নরসিংদীর সদর সি. আর. আমলী আদালতে এই মামলাটি করেছেন গীতিকার, প্রযোজক ও বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন আকাশ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ (২) ধারাসহ কপিরাইট আইন ২০২৩-এর ৮২ ও ৮৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জসিম উদ্দিন আকাশ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গান লেখালেখি, প্রযোজনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রবাসে অবস্থানকালে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়া পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজন হলে গায়ক আকাশ সেনের মাধ্যমে পরাগ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পরাগ কুমার বিশ্বাসকে বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়া পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। জসিম উদ্দিন আকাশ অভিযোগ করেছেন যে, পরাগ কুমার বিশ্বাস বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে মিউজিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান বিলিভ মিউজিকের চুক্তির কথা বলে কৌশলে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পি টিউনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করেন।
এর মাধ্যমে আপন মানুষ চেনা বড় দায়সহ বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়ার জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পি টিউনের ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় জসিম উদ্দিন আকাশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরাগ কুমার বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পর তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন জসিম উদ্দিন আকাশ।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসে অবস্থানকালে জসিম উদ্দিন আকাশ বিভিন্ন সময়ে পরাগ কুমার বিশ্বাসের কাছে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো অর্থের হিসাব চেয়েছেন। একই সঙ্গে সঙ ট্রাস্ট, সনি ভিভো ও আইএমআরওসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত ব্যবসায়িক আয়ের হিসাবও জানতে চাওয়া হয়। তবে পরাগ কুমার বিশ্বাস এসব অর্থ ও আয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রদান করেননি বলে অভিযোগ করেছেন প্রযোজক ও গীতিকার জসিম উদ্দিন আকাশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জসিম উদ্দিন আকাশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জসিম উদ্দিন আকাশ তার অভিযোগে দাবি করেছেন যে, পরাগ কুমার বিশ্বাস তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকের অজান্তে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম করেছেন।
কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে জসিম উদ্দিন আকাশ তার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণার বিচার দাবি করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
সংগীত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে এই মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এটি কপিরাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়ের হিসাব সংক্রান্ত জটিলতার একটি বড় উদাহরণ। জসিম উদ্দিন আকাশ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তার পাওনা ও ন্যায়বিচার পাবেন।
