বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে কমিশন। মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়াটি শিগগির জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। এই বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের অন্তত ১০ থেকে ২০ শতাংশ অফলোডের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি আইপিও ছাড়াই সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানিকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন কোম্পানি। এছাড়া বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিও এই সুযোগের আওতায় থাকবে।
টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ রয়েছে এমন কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।
কমিশন জানিয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এদিকে বিএসইসি ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানির স্পনসর বা পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ মে ২০২৪ সালের নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে এই সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা এবং শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের নিজস্ব তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লভ্যাংশ পাঠাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণের পর প্রাথমিক কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর অংশ হিসেবে ডিএসইর ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এই পরিকল্পনায় ট্রেডিং সিস্টেমের উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিএসইসি এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইনডেক্স ফিউচার চালুর মাধ্যমে ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরু হবে। কমিশন আশা করছে, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে এই আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হতে পারে।
