বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করেছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ বা মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলারের বেশি মূল্যে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মোট তিনটি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৪৯তম কার্গোটি ২৫ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, ৫০তম কার্গোটি ১ থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এবং ৫১তম কার্গোটি ৫ থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রতিটি কার্গোর জন্য আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৪৯তম কার্গোর জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৭ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার দর প্রস্তাব করেছে। ৫০তম কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক শূন্য ৩ মার্কিন ডলার এবং ৫১তম কার্গোর জন্য ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ মার্কিন ডলার দর প্রস্তাব করেছে।
এই তিনটি কার্গো আমদানির পাশাপাশি জিটুজি বা সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে চুক্তির আওতায় আরও একটি কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পেট্রোবাংলার স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অধীনে এই অতিরিক্ত কার্গোটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কার্গোর ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার।
এলএনজি আমদানির এই উচ্চমূল্য গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২৪ দশমিক ৬৩ ডলার দরে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তারও এক সপ্তাহ আগে ১৭ আগস্টের বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এলএনজির দাম অনেক কম ছিল। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও সরকার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সাড়ে ১০ ডলারের কম মূল্যে ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং চাহিদার পরিবর্তনের কারণে এলএনজির এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
সরকার দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে উচ্চমূল্য হওয়া সত্ত্বেও এলএনজি আমদানির এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত উভয় প্রস্তাবই বিস্তারিত আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এলএনজি আমদানির এই নতুন সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং তার ফলে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
