নারায়ণগঞ্জ শহরের বাজারে গত কয়েক মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্যের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন এবং এর ফলে বাজারে বেচাকেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার কারণে ক্রেতাদের সাথে তাদের প্রায়ই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, কারণ ক্রেতারা বর্তমান বাজারমূল্য বিশ্বাস করতে চাইছেন না। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্লাস্টিক পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন পণ্যের বর্তমান মূল্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চামচ পটের ডজন ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫ টাকা, ছোট গোল জালি ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫ টাকা এবং ছোট বালতি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড় বালতির দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নামী কোম্পানির বড় বালতির দাম ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। ছোট বক্সের ডজন ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা এবং বড় বক্সের দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। মোড়া ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, গামলা ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা এবং নামী কোম্পানির গামলার দাম ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা হয়েছে।
বদনার দাম ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা এবং প্লাস্টিক ব্যাংকের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মগের দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, ডাল চামচ ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, ক্লাসিক মগ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, ঝুড়ি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা এবং সাবানের কেইস ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে।
রুটি জালির ডজন ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, বিড়ালের ঝুড়ি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা, ময়লার ডাস্টবিন ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা, প্লাস্টিকের ঝাড়ু ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা, রেক ৫৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫০ টাকা, প্লাস্টিকের ডালা ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা এবং চেয়ার ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডলারের সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে। আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টিও উৎপাদন ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় থেকে পণ্যের দামে প্রভাব পড়তে শুরু করলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা আরও তীব্র হয়েছে।
প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমলেও ব্যাংকের মুনাফার হার এবং ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের ওঠানামা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে সরবরাহকারীরা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানাচ্ছেন।
তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন এবং ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
