বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, প্রতি ভরি (১১. ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। এই নতুন দর রবিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।
এই মূল্যের সাথে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পরিশোধিত স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। কমিটির এক সভায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ড. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তন দেশের সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজুস স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করে থাকে।
তবে এবার স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টিই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বর্ণের দামের এই হ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে, যারা বিয়ের মৌসুম বা বিশেষ উৎসবের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন। তবে স্বর্ণের দামের এই অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার মূলত আমদানিনির্ভর, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে। বাজুস নিয়মিতভাবে বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে দাম সমন্বয় করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই দরপতন ঘটল। স্বর্ণের দামের এই নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও একইভাবে সমন্বয় করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তনই বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, কারণ এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বাজুসের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নতুন নির্ধারিত মূল্যে স্বর্ণ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্বর্ণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাজুস নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, স্বর্ণ কেনার সময় বাজুসের নির্ধারিত মূল্য তালিকা যাচাই করে নিতে। স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে স্বর্ণের চাহিদার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা আগামী কয়েক দিনে বোঝা যাবে। স্বর্ণের বাজার মূলত মানুষের আস্থার ওপর টিকে থাকে, তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজুসের এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নতুন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। স্বর্ণের দামের এই হ্রাস বা বৃদ্ধি সবসময়ই সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। বাজুস জানিয়েছে, বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে তারা নিয়মিত বিরতিতে দাম সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। স্বর্ণের দামের এই নতুন হার কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে নতুন তালিকা অনুযায়ী কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
ক্রেতারা এখন থেকে নির্ধারিত এই দামেই স্বর্ণালংকার কিনতে পারবেন। বাজুসের এই নিয়মিত কার্যক্রমের ফলে স্বর্ণের বাজারে একটি শৃঙ্খলা বজায় থাকে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
