টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের নিজস্ব ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর এবং বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিশ্লেষণ করে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১. ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো গ্রাহক যদি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হন, তবে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার নিজস্ব লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা এই বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবেন।
এই গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রণোদনার অর্থ প্রদানের বিষয়টি তদারকি করবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে এবং কোনোভাবেই তা নগদে দেওয়া হবে না।
আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব সিস্টেম স্থাপন করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার এবং মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সকল যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ নেই। গ্রাহকদের নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে। এখান থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে।
সরকার আশা করছে, এই প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ গ্রাহক ও উদ্যোক্তারা আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন, যা দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার থেকেই এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজটি কার্যকর হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
গ্রাহকদের এই সুযোগ গ্রহণ করে জাতীয় গ্রিডে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
