জাপান থেকে আমদানিকৃত একটি কনটেইনার থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির বিভিন্ন অংশ জব্দ করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি এলাকায় মঙ্গলবার এই চালানটি জব্দ করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কনটেইনারটি আমদানির সময় ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ বা ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কনটেইনারটি খোলার পর ভেতরে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ এবং বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে টায়ারসহ বিপুল পরিমাণ অন্যান্য যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জব্দকৃত এসব বিলাসবহুল গাড়ির অংশ ও যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাপান থেকে পণ্যটি আসার পর প্রায় এক মাস পর্যন্ত কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি।
পরবর্তীতে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চালানটি খালাসের একটি অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চালানটি আটক করা হয়। বর্তমানে কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ এই আমদানির সঙ্গে জড়িত নথিপত্র এবং লেনদেনের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছে। আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য, পরিশোধিত অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক দলিলগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ায় এসব বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জব্দকৃত যন্ত্রাংশগুলো পূর্ণাঙ্গ গাড়ির বৈশিষ্ট্য বহন করে কি না, তা নিশ্চিত হতে কারিগরি পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার পর বন্দরের নিরাপত্তা ও আমদানি প্রক্রিয়ায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ি বা এর যন্ত্রাংশ আমদানির মাধ্যমে সরকার যাতে কোনো ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। জব্দকৃত কনটেইনারটি বর্তমানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি সেখানেই থাকবে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
